এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শহর ও মফস্বলের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বড় ধরনের বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোর শিক্ষার্থীরা পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে থাকলেও মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিত্র বেশ হতাশাজনক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঢাকা মহানগরে পাসের হার ৮৩ শতাংশের বেশি হলেও মাদারীপুর জেলায় তা প্রায় ৫৮ শতাংশ। একই চিত্র চট্টগ্রাম বোর্ডেও; মহানগরে পাসের হার ৭৪ শতাংশ হলেও খাগড়াছড়ি জেলায় তা মাত্র ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার সারা দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যার অধিকাংশই মফস্বল এলাকায় অবস্থিত। এর মধ্যে ২২৬টি মাদ্রাসা, ৫৭টি সাধারণ বিদ্যালয় এবং ২৯টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী এই বৈষম্যের পেছনে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট, পাঠদানে তদারকির অভাব এবং অভিভাবকদের আর্থিক অসচ্ছলতাকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, অনেক প্রতিষ্ঠানে এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয় পড়াতে হচ্ছে, যা ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জয়পুরহাটের পাঁচটি এবং পিরোজপুরের পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাসলিমা আক্তার জানান, প্রয়োজনীয় শিক্ষক না পাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। এদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, শূন্য পাস করা ২২৬টি মাদ্রাসার প্রধানদের ডেকে কারণ অনুসন্ধান করা হবে এবং সে অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে এনে গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা জরুরি।
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় শহর ও মফস্বলের ফলাফলে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য। শিক্ষক সংকট ও তদারকির অভাবকে এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


0 Comments