মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিবর্তে ওই অঞ্চলে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থা না কাটলে ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে লিংকনের নাবিকদের মানসিক চাপ ও বিভিন্ন সমস্যার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি দীর্ঘ সময় বজায় রাখা সম্ভব। অন্যদিকে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওয়াশিংটন এই জলপথ তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করলেও ইরান তা অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এটি খোলা হবে না। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে দৈনিক ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সেই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে থাকলেও নতুন করে আলোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রণতরি পাঠিয়ে অবরোধ দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যপ্রাচ্যে রণতরি পরিবর্তন করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অগ্রগতি না হলে ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও চলছে দুই দেশের রেষারেষি।


0 Comments