বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আবাসিক এলাকার তিনটি ডুপ্লেক্স বাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মিরপুর ১৪ নম্বরে অবস্থিত এই বাড়িগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি এসব আবাসন সুবিধা ব্যবহার না করে কর্মকর্তারা নিয়মিত বাড়িভাড়া ভাতা গ্রহণ করছেন।
ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে নির্মিত এই আবাসিক এলাকায় চেয়ারম্যানের জন্য একটি এবং সদস্যদের জন্য দুটি ডুপ্লেক্স বাড়ি তৈরি করা হয়। চেয়ারম্যানের জন্য নির্ধারিত ৩ হাজার ৪০০ বর্গফুটের বাড়িটি ২০১০ সাল থেকে এবং সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের বাড়ি দুটি ২০১৫ সাল থেকে খালি পড়ে আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়িগুলোর দরজা-জানালা ভেঙে গেছে, দেয়ালে শেওলা জমেছে এবং মূল ফটকের লোহার দরজা উধাও হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় লোহার গ্রিল ও জানালায় মরিচা ধরেছে।
সরকারি আবাসন বিধিমালা অনুযায়ী, বরাদ্দ পাওয়া বাসায় না থাকা বিধিবহির্ভূত এবং এর জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। তবে ইউজিসির অনেক সদস্যই সেখানে থাকতে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন। নথিপত্র অনুযায়ী, সাবেক সদস্য অধ্যাপক হাসিনা খান, অধ্যাপক আবু তাহের এবং অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ ব্যক্তিগত কারণ বা নিজস্ব আবাসন থাকার কথা জানিয়ে সেখানে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। মূলত মূল বেতনের ৫৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার কারণে অনেকে নিজস্ব পছন্দের এলাকায় থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
বর্তমানে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফ্ল্যাটে থাকছেন। তিনি জানান, মিরপুর ও ধানমন্ডির নির্ধারিত সরকারি বাসভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় তিনি সেখানে থাকছেন না। তবে ইউজিসির নিজস্ব সম্পদ নষ্ট হলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে বাড়িগুলো কাজে লাগানোর কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। উল্টো চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্ল্যাটটি ইউজিসির অর্থে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইউজিসির জেনারেল সার্ভিসেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালক জাফর আহম্মদ জাহাঙ্গীর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মিরপুরে ইউজিসির ১০ কোটি টাকার ডুপ্লেক্স বাড়িগুলো এক দশকের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত। আবাসন সুবিধা না নিয়ে কর্মকর্তারা নিচ্ছেন বাড়িভাড়া ভাতা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান এই সরকারি সম্পদ।


0 Comments