দেশের চা শিল্পের বিদ্যমান জটিলতা নিরসন এবং এই খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি ‘মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রীকে সভাপতি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সদস্য সচিব করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
গত ২৬ জুলাই চা বাগানের মালিক ও এ শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে চা শিল্পের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই নতুন কমিটি গঠন করা হলো।
কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তিনটি নির্দিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো— চা বাগান মালিকদের শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিল ও নতুন ঋণ প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করা, চা খাতের জন্য ৫ শতাংশ সুদে একটি আবর্তক তহবিল গঠন এবং চাকে ‘কৃষি পণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করাসহ বাগানের অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ভূমি সচিব, অর্থ সচিব, কৃষি সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ চা সংসদের চেয়ারম্যান। এছাড়াও কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ চা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক এবং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে নতুন কোনো সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
দেশের চা শিল্পের উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ সুবিধা ও চাকে কৃষি পণ্য ঘোষণার বিষয়ে সুপারিশ করবে এই কমিটি।


0 Comments