গত জুলাইয়ে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ইরানি পরিকল্পনার বিষয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে 'ভুয়া' বলে দাবি করেছে তুরস্ক। তুর্কি কর্মকর্তাদের মতে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা নস্যাৎ করতেই মূলত এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল। মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন কর্মকর্তারা তুর্কি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে, বিমানবন্দর থেকে এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কাঁধে রেখে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ট্রাম্পের বিমানে হামলা চালাতে পারে ইরানের একটি গোপন দল। এই হুমকির মুখে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পের বিমানটি এতিমেসগুত বিমান ঘাঁটি থেকে সরিয়ে এসেনবোগা বিমানবন্দরে নিয়ে যায় এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্বলিত পুরোনো একটি বিমান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
তুর্কি কর্মকর্তারা এখন মনে করছেন, এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি ছিল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের একটি রাজনৈতিক কৌশল। এর মূল লক্ষ্য ছিল একদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সুসম্পর্কে ফাটল ধরানো এবং অন্যদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের সম্ভাবনা নস্যাৎ করা।
তুর্কি নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিলেও প্রতিবেদনটির সত্যতা নিয়ে শুরু থেকেই সন্দিহান ছিলেন। তাদের মতে, আঙ্কারার তৎকালীন কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে এমন জটিল ও বড় ধরনের অভিযান চালানো ইরানের পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল। তুর্কি কর্মকর্তাদের ধারণা, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই এমন কৃত্রিম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছিল।
আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন চলাকালে ট্রাম্পকে হত্যার ইরানি ষড়যন্ত্র নিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে ভুয়া বলছে তুরস্ক। তুর্কি কর্মকর্তাদের দাবি, তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনা বানচাল করতেই এই চাল চেলেছে ইসরায়েল।


0 Comments