বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী গোষ্ঠী নেই এবং এই শব্দটি এ দেশের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিচিত্রা তির্কি ও সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান এই প্রতিবাদ জানান এবং মন্ত্রীদের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে এ দেশের আদিবাসীদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতিগত পরিচয়কে অস্বীকার করা হয়েছে। সংগঠনটি জানায়, বাংলাদেশে সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাঁওসহ ৩৮টির বেশি জাতিসত্তার প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বসবাস করে। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করে আসছেন। বাঙালি ও আদিবাসী সবাই এ দেশের নাগরিক হলেও তারা জাতিগতভাবে ভিন্ন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ আরও উল্লেখ করে যে, ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত পাহাড়পুর আদিবাসী উচ্চবিদ্যালয়সহ দেশে ৬৫টির বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ‘আদিবাসী’ শব্দটি যুক্ত রয়েছে। এছাড়া ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারায় এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ এই শব্দের ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের বাণীতে এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি গোলটেবিল বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই, সবাই এ দেশের অধিবাসী। একই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আদিবাসী শব্দটিকে অপ্রাসঙ্গিক বলে অভিহিত করেন। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই শব্দ নিয়ে অপরাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশে আদিবাসী নেই বলে দুই মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। সংগঠনটি মন্ত্রীদের এই বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে।


0 Comments