মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনে বর্তমানে চরম আস্থাহীনতা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একের পর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করে নিজের অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি তথ্য গোপন ও পলিগ্রাফ টেস্টের মাধ্যমে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। সম্প্রতি মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পেন্টাগনের বর্তমান ও সাবেক ১৫ জন কর্মকর্তার বক্তব্যে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
হেগসেথের নির্দেশে সামরিক অভিযান সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সেনাদের গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তিতে (এনডিএ) স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। এমনকি নিয়মিত পলিগ্রাফ টেস্টও নেওয়া হচ্ছে। সেনাপ্রধান জেনারেল জর্জের কর্মজীবনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে হেগসেথ চারজন কর্নেলের পদোন্নতি আটকে দিয়েছিলেন। গত ১ এপ্রিল সেনাপ্রধান বৈঠকের অনুরোধ করলেও পরদিনই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
হেগসেথের এই কঠোর অবস্থানের শিকার হয়েছেন নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানও। এছাড়া সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকলকেও তিনি সন্দেহের চোখে দেখছেন। জেনারেল জর্জকে সরানোর আগে তিনি ভাইসমার্কিন চিফ অব স্টাফ জেনারেল জেমস মিঙ্গুসকে সরিয়ে নিজের সামরিক সহকারী জেনারেল ক্রিস লানেভকে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। এত বিতর্কের মাঝেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হেগসেথের পাশেই রয়েছেন এবং তাকে এই পদের জন্য উপযুক্ত বলে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কঠোর সিদ্ধান্তে পেন্টাগনে অস্থিরতা বাড়ছে। সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত ও পলিগ্রাফ টেস্টের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা।

0 Comments