চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সরকারের প্রায় পৌনে দুই লাখ শতক খাসজমি ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র থেকে গায়েব হয়ে গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের সঙ্গে ভূমি ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কয়েক হাজার কোটি টাকার এই বিশাল সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি ও নামজারি করা হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে সরকারের মোট ৩১০০ একর খাসজমি থাকলেও সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের রেকর্ডে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ শতক জমির কোনো হদিস নেই।
এই ভূমি লুটের মহোৎসবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার পরিবারের মালিকানাধীন ‘চৌধুরী অ্যাগ্রো’সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে এসেছে। দখলদারদের তালিকায় আরও রয়েছে চট্টগ্রাম ব্রিকস অ্যান্ড ক্লে ওয়ার্কস লিমিটেড, পোর্টলিংক লজিস্টিকস কনটেইনার লিমিটেড এবং খান অ্যাগ্রোর মতো প্রতিষ্ঠান। ভূমিদস্যুরা পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করে বিক্রি করায় ওই এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ পাহাড়-টিলা ইতোমধ্যে উজাড় হয়ে গেছে। এমনকি ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা নির্মাণ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমদ জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরের জমির প্রকৃত চিত্র জানতে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হবে। প্রভাবশালীরা কীভাবে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত জানিয়েছেন, এসি ল্যান্ড অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী বর্তমানে সেখানে মাত্র ৯১০ একর জমি অবশিষ্ট রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ খাসজমি উদ্ধারে ২০২২ সালে মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হলেও প্রভাবশালীদের বাধার মুখে তা সফল হয়নি। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠান এই জমির বরাদ্দের জন্য আবেদন করে রেখেছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সরকারের প্রায় দুই লাখ শতক খাসজমি রেকর্ডপত্র থেকে গায়েব হয়ে গেছে। সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে এই বিশাল ভূমি লুটের অভিযোগ উঠেছে।

0 Comments