একবিংশ শতাব্দীর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পরাশক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মুখে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক নীল আকাশ মনে করেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক এই অঞ্চলের জন্য একটি কৌশলগত রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। বর্তমানে এই অঞ্চলে বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বসবাস এবং সম্মিলিত অর্থনীতির আকার ৫ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের হার মাত্র ৫ শতাংশের কাছাকাছি।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাউথ এশিয়ান ইন্টিগ্রেটেড পাওয়ার গ্রিড এবং সার্ক এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন এই বিশ্লেষক। এর ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য ৫ গুণ বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সার্ক স্ট্র্যাটেজিক ফুড রিজার্ভ এবং কৃষি উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে জরুরি খাদ্য সরবরাহের সময় অর্ধেক কমে আসবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সার্ক ক্লাইমেট সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কোভিড-১৯ এর শিক্ষা কাজে লাগিয়ে সার্ক সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং আঞ্চলিক ভ্যাকসিন জোট গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সাফটা বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল পেমেন্ট করিডোর চালুর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় একটি সেতুবন্ধনকারী রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগ, জলবায়ু কূটনীতি এবং বাণিজ্যিক সংযোগে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। নীল আকাশের মতে, বিভাজন নয় বরং সহযোগিতার পথ বেছে নিলে সার্ক আগামী দুই দশকে এই অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদে পরিণত হবে।
বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মুখে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সার্ক পুনর্জাগরণ জরুরি। জ্বালানি, খাদ্য ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।


0 Comments