মানুষের জীবন অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। ক্যারিয়ার গঠন থেকে শুরু করে জীবনসঙ্গী নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের কোনো না কোনো পথ বেছে নিতে হয়। অনেক সময় ইস্তিখারা করার পরেও মনে দ্বিধা বা অস্থিরতা কাজ করে। এই ধরনের মানসিক অস্থিরতা ও সিদ্ধান্তহীনতা দূর করতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়া শিখিয়েছেন।
হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে লক্ষ্য করে নবীজি (সা.) এই দোয়াটি শিখিয়েছিলেন। দোয়াটি হলো: ‘আল্লাহুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনী’, যার অর্থ—হে আল্লাহ, আমাকে সত্য পথ দেখান এবং সঠিকতায় অবিচল রাখুন। সহিহ মুসলিমের ২৭২৫ নম্বর হাদিসে এই দোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী জীবনে হযরত আলী (রা.) যখনই কোনো জটিল বা সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতেন, এই দোয়াটিই ছিল তাঁর মনের স্থিরতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল চাবিকাঠি।
দোয়াটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নবীজি (সা.) একটি চমৎকার উপমা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যখন কেউ হেদায়েত বা সঠিক পথ প্রার্থনা করবে, তখন যেন সে আল্লাহর প্রদর্শিত সরল পথের কথা চিন্তা করে। আর যখন অবিচলতা বা ‘সাদাদ’ প্রার্থনা করবে, তখন ধনুক থেকে নিখুঁতভাবে ছুটে যাওয়া তীরের কথা স্মরণ করবে, যা সরাসরি লক্ষ্যে আঘাত করে।
এই আমলটি করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা সীমা নেই। প্রাত্যহিক জীবনের যেকোনো প্রয়োজনে মনে মনে বা উচ্চস্বরে এই দোয়াটি পাঠ করা যায়। তবে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়গুলোতে এটি পাঠ করলে অধিক সুফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে, ফরজ নামাজের শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর আগে, সেজদারত অবস্থায় এবং বৃষ্টির সময় এই দোয়াটি পাঠ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ও মানসিক অস্থিরতা কাটাতে নবীজির শেখানো দোয়াটি অত্যন্ত শক্তিশালী। সঠিক পথ ও অবিচলতা অর্জনে এই আমলটি নিয়মিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

0 Comments