ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত অষ্টম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্বাগতিকদের কাছে ৩-১ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। টানা দুবারের চ্যাম্পিয়নদের সামনে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের হাতছানি থাকলেও রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে হারের মধ্য দিয়ে ২৬ বছর আগের এক বিষাদময় স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটল। ১৯৯৯ সালে এই মাঠেই পুরুষ সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভারতের জয়জয়কার থাকলেও সুশৃঙ্খল ফুটবল খেলার জন্য নেপালকে ‘ফেয়ার প্লে’ পুরস্কার দেওয়া হয়। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন ভারতের আবেকা সিং এবং সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন পানথই চানু। পুরো আসরে দুর্দান্ত খেলে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ভারতের সানফিদা নংরুম। বাংলাদেশের হয়ে গত দুই আসরে সাবিনা খাতুন ও ঋতুপর্ণা চাকমা সেরা খেলোয়াড় হলেও এবার সেই ব্যক্তিগত অর্জনগুলোও ভারতের দখলে গেছে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন। তিনি বলেন, মাঠের ভেতরে কিছু ভুলের কারণে হারতে হলেও মেয়েদের লড়াকু পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত। গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে না খেলানো প্রসঙ্গে তিনি জানান, মিলি গোলপোস্টের নিচে ভালো করলেও রূপনার পারফরম্যান্স তাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তবে তিনি ঋতুপর্ণা চাকমা, মৌমিতা, আফরিন ও আনিকাদের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে, ভারতের কোচ ক্রেস্পিন ছেত্রী জয়ের আনন্দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের ঋতুপর্ণা চাকমার খেলার প্রশংসা করে তাকে উদীয়মান ফুটবলারদের জন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ক্রেস্পিন জানান, সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জয়ের ক্ষুধা বাড়িয়ে দিয়েছিল, যা ফাইনালে কাজে লেগেছে। শেষ পর্যন্ত সাফের মুকুট হারানোর বেদনা নিয়ে বৃষ্টিভেজা মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে নারী সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশন ব্যর্থ হলো বাংলাদেশের। গোয়ার মাঠে রানার্সআপ হয়েই মাঠ ছাড়তে হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

0 Comments