মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা সেতুর নিচে ইউটার্ন নেওয়ার জন্য কোনো আন্ডারপাস না থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্টোপথে যানবাহন চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে জামালদী থেকে হোসেন্দী এলাকার কল-কারখানার পণ্যবাহী ট্রাক ও লরিগুলো টোল বাঁচাতে এবং সময় কমাতে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে আসা যানবাহনগুলোকে পুনরায় ফিরে যেতে হলে প্রথমে মেঘনা ব্রিজ পার হয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ যেতে হয়। সেখান থেকে ইউটার্ন নিয়ে আবার টোল দিয়ে সেতু পার হয়ে গন্তব্যে ফিরতে হয়। এই অতিরিক্ত টোল ও দীর্ঘ পথ এড়াতে চালকরা উল্টোপথে গাড়ি চালাচ্ছেন।
শুধু বড় যানবাহনই নয়, সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেট কার ও ব্যাটারিচালিত রিকশাও এই পথে চলাচল করছে। এতে মহাসড়কে নিয়মিত যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। জামালদী, লস্করদী, ভবানীপুর ও বড় ভাটের চর এলাকার বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে কুমিল্লা বা চট্টগ্রামের দিকে যেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিকল্প হিসেবে গ্রামের সরু রাস্তা ব্যবহার করা গেলেও তা বড় ট্রাক বা লরির জন্য উপযোগী নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাকচালক জানান, গজারিয়ায় মালামাল নামিয়ে আবার চট্টগ্রামে ফেরার সময় সোনারগাঁ ঘুরে আসা অনেক ব্যয়বহুল। অতিরিক্ত টোল ও জ্বালানি খরচ বাঁচাতে তারা বাধ্য হয়ে উল্টোপথে চলছেন। অথচ মেঘনা ব্রিজের সোনারগাঁ অংশে আন্ডারপাস থাকায় সেখানকার যানবাহনগুলো সহজেই ইউটার্ন নিতে পারে।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন জানান, জামালদী এলাকায় মেঘনা ব্রিজের নিচে একটি আন্ডারপাস নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই আন্ডারপাসটি দ্রুত নির্মিত হলে মহাসড়কে যাতায়াত নিরাপদ হবে এবং জনদুর্ভোগ লাঘব হবে।
গজারিয়ায় মেঘনা ব্রিজে আন্ডারপাস না থাকায় টোল ও অতিরিক্ত পথ বাঁচাতে মহাসড়কে উল্টোপথে চলছে যানবাহন। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও যানজট। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

0 Comments