২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসে ইথিওপিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এবং রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন, যার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে পান নোবেল শান্তি পুরস্কার। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই আশাবাদ এখন গভীর সংকটে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে ১৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশটি চরম জাতিগত বিভাজন ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জর্জরিত।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাইলেমারিয়াম দেসালেন বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করার পর আবি আহমেদ ক্ষমতায় বসেন। শুরুতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও দ্রুতই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ২০১৯ সালে তিনি ক্ষমতাসীন জোট ইপিআরডিএফ ভেঙে প্রসপারিটি পার্টি গঠন করেন, যা আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে। বিশেষ করে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) তাদের প্রভাব হারানোর পর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ায়।
২০২০ সালে শুরু হওয়া ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে প্রায় ছয় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২২ সালে শান্তিচুক্তি হলেও তিগ্রাই, আমহারা ও ওরোমিয়া অঞ্চলে এখনো সশস্ত্র বিদ্রোহ ও জাতিগত সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। কেনিয়ায় নির্বাসিত ইথিওপীয় ভূরাজনীতি গবেষক সুরাফেল গেতাহুন জানান, আবি আহমেদের শাসনামলে ইথিওপীয়রা আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং সামাজিক সংহতি ভেঙে গেছে। বিদেশি গণমাধ্যমে কথা বলার কারণে তাকে নিজেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে ১ জুনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী আদ্দিস আবাবায় উন্নয়নের চাকচিক্য দেখা গেলেও প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে যুদ্ধ ও গণহত্যার বিভীষিকা বিদ্যমান। ওয়াশিংটনে ইথিওপিয়ার সাবেক উপরাষ্ট্রদূত বেরহানে কিদানেমারিয়াম অভিযোগ করেছেন, ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা আবি আহমেদ দেশকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দল ইজেমার নেতা ইয়োব মেসাফিন্ট রাজনৈতিক হয়রানি ও কর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলেছেন। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
শান্তিতে নোবেলজয়ী আবি আহমেদের শাসনামলে চরম জাতিগত বিভেদ ও গৃহযুদ্ধের কবলে পড়েছে ইথিওপিয়া। ১ জুনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

0 Comments