রাজধানীর ব্যস্ত রাজপথে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভিড়ে মিশে থাকে মারুফ, জয়নাল আবেদীন কিংবা আব্দুল হালিমের মতো মানুষ। বয়সের ব্যবধান থাকলেও তাঁদের প্রত্যেকের জীবনের লড়াই প্রায় একই—কোনোমতে টিকে থাকা। ১২ বছর বয়সী মারুফ রাজধানীর বাবুবাজার থেকে ডেমরা রুটের একটি মিনিবাসে চালকের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। ভোর ছয়টা থেকে রাত দশ-এগারোটা পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে তার দিন কাটে গাড়িতেই। বাবা নেই, মা থাকেন বরিশালে। নিজের সামান্য হাতখরচ রেখে আয়ের সব টাকাই মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেয় এই কিশোর। অন্যদিকে, ৬০ বছর বয়সী জয়নাল আবেদীন দীর্ঘ সময় ধরে কারওয়ান বাজারে মিন্তি হিসেবে কাজ করছেন। দুই ছেলে আলাদা থাকায় বৃদ্ধ বয়সেও তাকে মাথায় করে ভারী মালামাল বহন করতে হয়। দিনে যা আয় হয়, তার বড় অংশই চলে যায় ঘরভাড়ায়। একই এলাকায় পান-সিগারেট বিক্রি করেন আব্দুল হালিম। একসময় পোশাক কারখানায় চাকরি করলেও সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে ঋণের জালে জড়িয়ে এখন তিনি দিশেহারা। রাজধানীর এই কঠিন বাস্তবতায় টিকে থাকতে শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত বিরামহীন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এই মানুষগুলো।
রাজধানীর ব্যস্ত রাজপথে টিকে থাকার লড়াইয়ে শামিল ১২ বছরের মারুফ থেকে শুরু করে ৬০ বছরের জয়নাল আবেদীন। কারো শৈশব হারিয়েছে বাসের হেল্পার হিসেবে, কারো বার্ধক্য কাটছে ভারী বোঝা বয়ে। বেঁচে থাকার এই কঠিন বাস্তবতার গল্প।

0 Comments