১৯৪৭ সালের দেশভাগ অনেক মানুষের জীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে রেলওয়েতে কর্মরত বদরুল বিশ্বাসের পরিবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। দেশভাগের সময় তিনি ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট রেলস্টেশনে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বদলি হয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুরের বিরল রেলস্টেশনে চলে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
বদরুল বিশ্বাসের মেয়ে বেগম লুৎফুন্নেসার জন্ম হয়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে শৈশবেই তিনি জন্মভিটা ছেড়ে বালুরঘাট হয়ে বিরলে চলে আসেন। পরবর্তীতে দিনাজপুরের পাটুয়াপাড়ায় তাঁর বিয়ে হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নিজের জন্মভূমি দেখার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাঁর মনে সবসময়ই ছিল।
মায়ের সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে ১৯৯৬ সালে লেখক তাঁর মা এবং দুই খালাকে নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামে যান। দীর্ঘ কয়েক দশক পর নিজের জন্মভিটায় ফিরে লুৎফুন্নেসা এক আবেগঘন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। তাঁকে দেখতে গ্রামের শত শত মানুষ ভিড় জমান। শৈশবের পরিচিত আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জীর্ণশীর্ণ ও রোগাক্রান্ত লুৎফুন্নেসাকে দেখে তাঁর চাচি ও ফুফুরা বিলাপ করতে থাকেন।
নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে ফিরতে পেরে লুৎফুন্নেসা যেমন আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন, তেমনি তাঁর ছেলেও তৃপ্ত ছিলেন মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে। ২০০৯ সালে ৭০ বছর বয়সে দিনাজপুরে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন বেগম লুৎফুন্নেসা। দেশভাগ ও শেকড়ের টানে ফেরার এই মানবিক গল্পটি আজও এক অনন্য স্মৃতি হয়ে আছে।
১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও এক মায়ের জন্মভিটায় ফেরার আবেগঘন গল্প। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৯৯৬ সালে নিজের জন্মভূমি চাঁপাইনবাবগঞ্জের লক্ষ্মীপুরে ফিরেছিলেন লুৎফুন্নেসা। সেই স্মৃতি ও শেকড়ের টানে ফেরার এক মানবিক উপাখ্যান।

0 Comments