বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) অনুস্বাক্ষরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সোমবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ইইউর হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ কায়া কালাসের উপস্থিতিতে এই চুক্তিটি অনুস্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চুক্তিটি বাংলাদেশ ও ইইউর সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে। এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা খাতে দুই পক্ষের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং ইইউর পক্ষে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালনি সই করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের চলমান সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে ইইউকে অবহিত করেন। কায়া কালাস বাংলাদেশে একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রশংসা করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সফরের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো এবং ইউরোপীয় কমিশনের কমিশনার একাতেরিনা জাহারিয়েভার সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় লজিস্টিকস, বন্দর ব্যবস্থাপনা, ওষুধশিল্প, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্টার্টআপ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ ও বেলজিয়ামের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
ব্রাসেলসে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: Prothom Alo

0 Comments