সিবি ডেক্স: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে তিন স্তরের একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসতে চায়, তবে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা এগোতে পারে।
জানা গেছে, যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ইরান ও লেবাননে ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসী হামলা চালানো হবে না— এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে, প্রথম স্তরের শর্তগুলো মেনে নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।
তৃতীয় পর্যায়ে, প্রথম দুই ধাপে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছালে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করলে মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়ালেস বলেন, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয় এবং এ নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা হবে না। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল এমন একটি চুক্তিতে সম্মত হবে যা দেশটির জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়।
প্রথম দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার আহ্বান জানায়। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি একাধিকবার পাকিস্তান সফর করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সরাসরি সংলাপে বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনিও আর তার প্রতিনিধি দলকে দীর্ঘ ফ্লাইটে পাঠাতে আগ্রহী নন এবং ভবিষ্যতে ফোনকলের মাধ্যমেই আলোচনা চালানো হবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই নতুন প্রস্তাবটি সামনে আনে ইরান। সর্বশেষ রোববার সংক্ষিপ্ত সফরে পাকিস্তান সফর শেষে রাশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন আব্বাস আরাগচি। এর আগে তিনি হরমুজ প্রণালীর অপর তীরবর্তী দেশ ওমান সফর করেন।
সোর্স: Axios, IRNA
0 Comments