সিবি ডেক্স: গাজীপুরের টঙ্গীর উত্তর বনমালা রোডে খালাতো বোনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান।
রোববার রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফাইসন্স রোডের পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানায় ক্যাজুয়াল মেশিন অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন সোহান। তার খালাতো বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা চলছিল।
এর মধ্যে ছোট ভাই সাকিব ওই খালাতো বোনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। বয়সের তুলনায় বড় ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সাকিবকে বাধা দেন সোহান। শনিবার রাতে এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সোহান ঘুমন্ত সাকিবের হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে দেন এবং ব্লেড দিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাস্থল আড়াল করার চেষ্টা করেন।
পরে পাশের কক্ষে থাকা তাদের বাবা সোহেল রানা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘটনাটি দেখে ফেললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাকে বনমালা রেললাইনের পাশে বসিয়ে রাখা হয়। নেশার কারণে সরে যেতে না পারায় চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় তিনি নিহত হন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহান বাবা ও ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
0 Comments