রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, শান্তিনগর ও বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাটা, এপেক্স, বেসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতায় সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। প্রসাধনী পণ্যে ছাড় রয়েছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত, সঙ্গে ফ্রি ডেলিভারি সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
এত বড় ছাড়ের পরও ক্রেতা উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেসরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেই এখনো বেতন না পাওয়ায় কেনাকাটা শুরু করেননি। ফলে বাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি।
পাদুকা খাতে দেশের বৃহৎ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাটা জানিয়েছে, তাদের সারাদেশে ২৪২টি শোরুমে ঈদ উপলক্ষে ১০ থেকে ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক অফার চলছে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও চলছে মেগা ক্যাম্পেইন। দারাজ বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত মাসের তুলনায় বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তবে গত বছরের ঈদের তুলনায় এবার বিক্রি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ক্রেতারা এখন উচ্চমূল্যের পণ্যের বদলে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই বেশি আগ্রহী।
ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারাও একই চিত্র তুলে ধরেছেন। ‘ওয়ারিশা ফ্যাশন’ ও ‘রাপুনজেল’-এর মতো অনলাইন ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি কিছুটা বাড়লেও তা প্রত্যাশার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে ‘কাব্বো কন্যা’ ও ‘প্রিন্সেস গ্যালারি’র মতো কিছু প্ল্যাটফর্মে তুলনামূলক ভালো বিক্রি হচ্ছে, বিশেষ করে শাড়ি ও শিশুদের পোশাকে।
উদ্যোক্তারা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি, ভোক্তাদের ব্যয়সংকোচন এবং বাজারের অনিশ্চয়তা এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তবে তারা আশা করছেন, ঈদের আগের সপ্তাহে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় বিক্রি বাড়বে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী ও শিশুদের পোশাক, পাঞ্জাবি, শাড়ি, সালওয়ার-কামিজ, জুতা, ব্যাগ ও পারফিউমের চাহিদা তুলনামূলক বেশি রয়েছে। বিক্রি বাড়াতে অনলাইন দোকানগুলো ক্যাশব্যাক, ফ্রি ডেলিভারি ও বিশেষ ঈদ অফার চালু রেখেছে।
0 Comments