তারাগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলন, দাম কমে কৃষকের লোকসানের শঙ্কা

তারাগঞ্জ উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে আলু বিক্রি হওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকায়, যেখানে উৎপাদন খরচ পড়ছে গড়ে ১৬ থেকে ১৭ টাকা। ফলে প্রতি কেজিতে প্রায় দ্বিগুণ লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

রামপুরা গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর আলু চাষে এক লাখ টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। এবারও একই পরিস্থিতি হলে আলু চাষ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পাঁচটি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন। তবে সংরক্ষণ সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলায় তিনটি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ১৬ হাজার টন হওয়ায় অধিকাংশ আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকরা বাড়ি বা অস্থায়ী গুদামে আলু রাখছেন, যার বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষতি এড়াতে অনেকেই কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চলতি মৌসুমে আবাদ কমে ৩ হাজার ৪৬৩ হেক্টরে নামলেও ফলন ভালো হয়েছে। তবে আলমপুর ইউনিয়নের পীরপাড়া গ্রামের কৃষক মিলন মিয়া বলেন, এভাবে লোকসান হলে আলু চাষ ছেড়ে দিতে হবে।

কৃষকদের দাবি—ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, সরকারি পর্যায়ে সরাসরি আলু ক্রয় এবং দ্রুত হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো। অন্যথায় প্রতিবছরই এ সংকট চলতে থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় জানান, বাজারদর ও সংরক্ষণ সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উৎপাদন ভালো হলেও বাজার স্থিতিশীল না হলে কৃষকদের দুর্ভোগ কমবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনার অসামঞ্জস্য দূর না হলে তারাগঞ্জে অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত আলু চাষ ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে।

Post a Comment

0 Comments