শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যময় দিন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং বাঙালির মৌলিক অধিকার আদায়ের প্রতীক। ভাষা মানুষের ব্যক্তিগত ও মৌলিক অধিকার এবং পরিবার, অনুভূতি ও চেতনার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঙালিকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ইতিহাস প্রমাণ করে, ত্যাগ ও সংগ্রাম ছাড়া কোনো জাতি অধিকার অর্জন করতে পারে না।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পেয়েছেন—এটাই বড় প্রাপ্তি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা হলো রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি। ভিত্তি দুর্বল হলে উঁচু ভবন দাঁড় করিয়ে লাভ নেই। শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘কারিকুলাম, ক্লাসরুম ও কনসিস্টেন্সি’—এই তিন বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। পাঠ্যক্রম মানসম্মত হতে হবে, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে এবং সারা দেশে শিক্ষার মানে সামঞ্জস্য আনতে হবে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি শিক্ষা ও বিভিন্ন ধারার মাদ্রাসাসহ বিদ্যমান শিক্ষাধারাগুলোর মধ্যে মানগত সমন্বয় জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্ঞান ভাষার মধ্যেই গঠিত ও প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় ভাষা ও গণিতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এ দুই বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে শিক্ষার ভিত্তি শক্ত হয় না। প্রয়োজনে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনায় টাস্কফোর্স গঠনের কথাও জানান তিনি। তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইংরেজি শেখানোর আগে বাংলা ভাষায় দক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে এবং কঠোর নজরদারি থাকবে। দুর্নীতিমুক্ত, মানসম্মত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
0 Comments