নরসিংদী-৩ (শিবপুর) সংসদীয় আসনটি একসময় বিএনপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ১/১১–পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হওয়ায় এবার পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিবপুর আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মঞ্জুর এলাহী। নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তার নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে শিবপুরের রাজনীতিতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে মঞ্জুর এলাহী আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি একাধিকবার জেল-জুলুম, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন। গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তার এই নিরলস তৎপরতায় দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে পড়া তৃণমূল বিএনপি আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। শিবপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজিত সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণ তার জনপ্রিয়তার উত্থানকে স্পষ্ট করছে। এসব সমাবেশ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মঞ্জুর এলাহীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও দলীয় ঐক্য শিবপুরে বিএনপির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে তার সামাজিক ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ড সাধারণ ভোটারদের কাছে তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে থাকে, তবে আসনটি পুনরুদ্ধার করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তবে নির্বাচনী লড়াইয়ে মঞ্জুর এলাহীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রভাব। এরপরও ধানের শীষের প্রতি ভোটারদের পুরনো আবেগ এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মঞ্জুর এলাহীর গ্রহণযোগ্যতা তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
গণসংযোগ চলাকালে এক উঠান বৈঠকে মঞ্জুর এলাহী বলেন, শিবপুর সবসময়ই ধানের শীষের ঘাঁটি ছিল এবং আছে। সাধারণ মানুষ বর্তমান দুঃশাসন থেকে মুক্তি ও পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে রয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে গেলে ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনটি দেশনায়ক তারেক রহমানকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় শিবপুরে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রত্যাশার বার্তা নিয়ে ঘুরছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। সব মিলিয়ে শিবপুরের রাজনৈতিক মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এখন দেখার বিষয়, এই ব্যাপক গণসংযোগ শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলন ঘটাতে পারে।
0 Comments