আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি যৌথ দল বিপুর বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে ৭টি পিস্তল, ৩টি রিভলভার, ২টি এয়ারগান, ১টি রাইফেল, ২টি রাইফেল ম্যাগাজিন, ৮টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ৩৯৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৩০ পিস কার্তুজ, ২ সহস্রাধিক এয়ারগান প্যালেটস, দূরবীন, পিস্তল গ্রিপ সাইট কভার, চাইনিজ কুড়াল, বিদেশি ছুরি, ২টি ওয়াকিটকি সেট, ব্যাটারি ও চার্জারসহ একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। বাড্ডা থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) আজহারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং শনিবার তাকে আদালতে তোলা হবে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিপু এসব অবৈধ অস্ত্র মজুত করেছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুব্রত বাইনের হয়ে তিনি রামপুরা, বনশ্রী, বাড্ডা, ভাটারা, বারিধারা ও গুলশান এলাকায় অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র-গোলাবারুদ বিক্রি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার সহযোগীদের মধ্যে ওয়াসির মাহমুদ সাঈদ (বড় সাঈদ), গোলাম মর্তুজা বাবু (মধু বাবু), সোহেল (কান্নি সোহেল)সহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। গত বছরের মে মাসে কুষ্টিয়ায় যৌথ অভিযানে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন বিপু।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বাড্ডা ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই আলমগীরের সঙ্গেও বিপুর ঘনিষ্ঠতা ছিল। আরও জানা যায়, মেরুল বাড্ডার একটি মাছের আড়ত, গাড়ির শোরুম, তৈরি পোশাক কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি এবং ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।
এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যৌথবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হচ্ছে। তপশিল ঘোষণার পর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযানে ২০৪টি অস্ত্র ও এক হাজার ৯৬৫টি গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী, গফরগাঁও, শরীয়তপুর ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম উদ্ধার এবং একাধিক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি ২২ হাজারের বেশি চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশের লুণ্ঠিত ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে এখনো এক হাজার ৩৩১টি উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে ১১২টি চায়না রাইফেল, ৩১টি চায়না এসএমজি, ৩টি চায়না এলএমজি, ৪৫০টি পিস্তল, ৩৯০টি বোর শটগানসহ আরও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ।
0 Comments