পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম জানান, ফুটেজে মুখ দেখে শনাক্ত করা সম্ভব ছিল না। তবে হাঁটার ভঙ্গি তাঁর পরিচিত মনে হয়। তিন বছর আগে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা এক নারীর সঙ্গে মিল খুঁজে পান তিনি। পুরোনো নথি ও সংরক্ষিত ছবি মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরা-৭ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় গৃহকর্ত্রী আয়শা আক্তার (৬২) ও তাঁর স্বামী মো. আনোয়ার হোসেনকে (৬৮) চেতনানাশক খাইয়ে লুটপাটের অভিযোগ ওঠে গৃহকর্মী ‘মারুফা’র বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত চেতনানাশকে আয়শা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে জানা যায়, তাঁর প্রকৃত নাম বিলকিছ বেগম (৪৩)। ছদ্মনামে কাজে যোগ দিয়ে তিনি সুযোগ বুঝে লুটপাট করতেন। ২১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, বিলকিছ প্রায় এক যুগ ধরে একই কৌশলে ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় চুরি করে আসছিলেন। বিভিন্ন বাসায় ছদ্মনামে কাজ নিয়ে কৌশলে চেতনানাশক প্রয়োগ করে মালামাল লুট করে পালাতেন। কাজ নেওয়ার সময় তিনি ছবি, এনআইডি বা মোবাইল নম্বর দিতেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় অন্তত পাঁচটি মামলার তথ্য রয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে হাতিরঝিল থানার একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দেড় মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। মুক্তির পর আবারও একই কৌশলে অপরাধে জড়ান।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, অভিযুক্ত নারী ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে কাজ নিতেন এবং পরিচয় গোপন রাখতেন। চেতনানাশক প্রয়োগ করে লুটপাট করাই ছিল তাঁর কৌশল।
0 Comments