রাজধানীর শাহবাগের ফুটপাতে দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করা গোলাপি বেগম অবশেষে একটি স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে তাঁর জন্য নবনির্মিত একটি আধাপাকা বাড়ির চাবি শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে হস্তান্তর করা হয়। গোলাপি বেগমের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সামগ্রিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বাসস্থানটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাড়িটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মান্নান সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই এই মানবিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। গোলাপি বেগমের জন্য নির্মিত এই বাড়িটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং এটি তাঁর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের একটি নতুন সুযোগ। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তিদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ মাহমুদ শ্যামল, জেলা প্রশাসক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
নিজের নতুন ঠিকানা ও বাড়ি পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গোলাপি বেগম। তিনি জানান, গ্রামের মানুষ তাঁর কষ্টের বিষয়ে অবগত থাকলেও কেউ স্থায়ীভাবে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি। তবে তাঁর দুর্দশার খবর পেয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তারেক রহমান। গোলাপি বেগম বলেন, গ্রামের মানুষ তাঁর কষ্টের কথা জানলেও কেউ ভাবেননি, কিন্তু জনাব তারেক রহমান তাঁর কথা ভেবেছেন এবং তাঁকে নিজের মায়ের চেয়েও বেশি আদর-যত্ন করেছেন। শাহবাগের ফুটপাত থেকে রতনপুরের নিজস্ব ঘরে ফেরার মাধ্যমে তাঁর জীবনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
শাহবাগের ফুটপাতে দীর্ঘদিন মানবেতর জীবন কাটানো গোলাপি বেগম অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পেলেন নিজের স্থায়ী ঠিকানা।
-6aae23508cd50.webp)

0 Comments