কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামা সীমান্তজুড়ে ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে চার শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার আতঙ্ক আরও তীব্র হয়। মঙ্গলবার হাজারো শ্রমিক কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ করে জানিয়ে দেন—বিকল্প কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ছাড়া ইটভাটা ভাঙতে দেওয়া হবে না।
অভিযানের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার ফাইতং বাজারে শ্রমিক ও স্থানীয় জনতার অবস্থান কর্মসূচিতে পাঁচ-ছয় হাজার মানুষ যোগ দেন। তাঁদের দাবি, এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবিকা। প্রশাসন যদি বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ চালায়, তবে তারা ‘কঠোর কর্মসূচি’তে যাবে বলে ঘোষণা দেন।
এর আগে সোমবার লামা থানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৪০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এবি ওয়াহিদ, এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম সমন্বয়কারী এরফানুল হকসহ স্থানীয় কয়েকজন ইটভাটা মালিক ও নেতার নাম রয়েছে।
গত রোববার চকরিয়ার মানিকপুরে তিনটি জিগজ্যাগ ইটভাটা উচ্ছেদ করার পর ফাইতং ইউনিয়নের ইটভাটাগুলোতে অভিযানে গেলে শ্রমিকেরা কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় শুয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ওই ঘটনার পরই মামলাটি হয়, যা মঙ্গলবার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা–কাঁঠালছড়া সড়কেও একই দিন সহস্রাধিক মানুষ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই কয়েক হাজার শ্রমিক, নারী–পুরুষ ও শিশু বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রেজাউল করিম বলেন, অভিযানের সময় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
0 Comments