ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে দেশের পর্যটন খাতের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জসমূহ

ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে দেশের পর্যটন খাতের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জসমূহ

ভ্রমণের আনন্দ অনেকটাই নির্ভর করে গন্তব্যের পরিবেশ ও ব্যবস্থার ওপর। তবে অনেক সময় দর্শনীয় স্থানে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং নানা ধরনের বিড়ম্বনা পর্যটকদের আনন্দের পরিবর্তে হতাশা তৈরি করে। বিশ্ব পর্যটন দিবসের ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগamir পর্যটন। প্রযুক্তির ব্যবহার ভ্রমণ পরিকল্পনা ও সেবা সহজ করতে পারলেও, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা উন্নত না হলে শুধু প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যটনের কাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের দীর্ঘ সৈকতে ঘুরতে গিয়েও পর্যটকদের নানা ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। সৈকতে বসার সময় হকারদের অনবরত ডাকাডাকি, ভিক্ষুকদের আনাগোনা, উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্সে গানবাজনা, বিচ বাইকের দাপট কিংবা বিভিন্ন সেবার প্রস্তাবের কারণে অনেক সময় মানসিক প্রশান্তির বদলে বিরক্তি তৈরি হয়। এই সমস্যার সমাধানে উচ্ছেদের পরিবর্তে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট বিক্রয় এলাকা, পরিচয়পত্র, মূল্যতালিকা ও আচরণবিধি নির্ধারণের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে আসা পর্যটকদের জন্য সৈকতের কিছু অংশ শান্ত বা কোয়ায়েট জোন হিসেবে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু কক্সবাজার নয়, সন্ধ্যার পরের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সংস্কৃতি, রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা, সংগীত, নৃত্য, হস্তশিল্প ও স্থানীয় খাবারের মাধ্যমে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। পাশাপাশি দেশের পাহাড়, হাওর, সুন্দরবন, নদী এবং কৃষি খাতকে ঘিরে নতুন পর্যটন অভিজ্ঞতা গড়ে তোলা যেতে পারে। গ্রামীণ পরিবেশ, ধানখেত, ফলের বাগান ও মাছের খামারকে যুক্ত করে কৃষি পর্যটনের প্রসারে যাতায়াত, নিরাপদ পানি, শৌচাগার ও নিরাপত্তার মতো অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ বা ডিজিটাল প্রচারণা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে পরিচ্ছন্ন টয়লেট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত গাইড এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে গন্তব্যের তথ্য, আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেও মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনার মান উন্নত না হলে পর্যটনের সুফল পাওয়া যাবে না। সরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব। পর্যটনের প্রকৃত সাফল্য কেবল পর্যটকদের সংখ্যা বা রাজস্ব দিয়ে পরিমাপ করা যায় না, বরং একজন পর্যটক নিরাপদে ও স্বস্তিতে ভ্রমণ শেষ করে পুনরায় সেখানে ফিরে যেতে চাওয়ার মধ্যেই এর সার্থকতা নিহিত। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. বশিরুল ইসলাম পর্যটন খাতের এসব সম্ভাবনা ও বাস্তবতার দিকগুলো তুলে ধরেছেন।

সংক্ষেপে:
প্রযুক্তির ছোঁয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনা ছাড়া দেশের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে দেশের পর্যটন খাতের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জসমূহ

0 Comments