প্রথম আলো ডটকম ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ পডকাস্ট শো লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ সিজন-৩ এর সপ্তম পর্বে অতিথি হিসেবে অংশ নেন লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিজন ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় এই পডকাস্টে বাংলাদেশের ব্যবসা, কনসালটিং খাতের বিকাশ, উদ্যোক্তা হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পডকাস্টের শুরুতে ক্যারিয়ারের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে বিজন ইসলাম জানান, সিটি ব্যাংকে করপোরেট কাজ করার পর ক্যারিয়ারের পঞ্চম বছরে তিনি আইবিএর সহপাঠী জাহেদ, ইফজাত ও সাইফকে সঙ্গে নিয়ে লাইটক্যাসল পার্টনার্স প্রতিষ্ঠা করেন। ধানমন্ডি লেকে হাঁটার সময় এই প্রতিষ্ঠানের আইডিয়া মাথায় আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বা ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং খাতের বিকাশ প্রসঙ্গে বিজন ইসলাম বলেন, দেশে এই খাত এখনো সেভাবে বিকশিত হয়নি এবং সাধারণত বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কনসালটিংয়ের চাহিদা আসে। তিনি জানান, দেশের ব্যবসাগুলো ধীরে ধীরে প্রথম বা দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের পারিবারিক মালিকানা থেকে পেশাদার ব্যবস্থাপনার দিকে রূপান্তরিত হচ্ছে, যার ফলে গবেষণা ও কনসালটিংয়ের চাহিদাও ভবিষ্যতে বাড়বে। পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরিদের ভূমিকা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, বাইরে থেকে এসে সরাসরি পরিচালক না হয়ে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা বেশি জরুরি। করপোরেট পোর্টফোলিও পরিচালনার বিষয়ে বিজন ইসলাম জানান, লাইটক্যাসল আগে বছরে ৪০ থেকে ৫০টি কাজ করলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ২৫ থেকে ৩০টিতে এনেছে, যার একটি বড় অংশই পুনরাবৃত্ত ক্লায়েন্ট। গেটস ফাউন্ডেশন, মেটা, ডাচ দূতাবাস, সুইস দূতাবাস ও এইচঅ্যান্ডএম ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে তাদের সঙ্গে কাজ করছে। দক্ষ জনবল ধরে রাখার প্রসঙ্গে তিনি ব্রেইন ড্রেইন বা মেধাবী তরুণদের দেশত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং জানান যে তাদের প্রতিষ্ঠানে মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের অংশীদার তৈরির চেষ্টা চলছে। কনসালটিং খাতের সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা বা কোম্পানি মেমোরি এবং দক্ষ জনবলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সরকারি মালিকানাধীন সংস্থায় আলাদা ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও পেশাদারত্ব থাকা প্রয়োজন। পডকাস্টের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিজন ইসলাম জানান, গত দশ বছরে লাইটক্যাসল বাংলাদেশে ১৫০ মিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার, উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং বিভিন্ন খাতের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া দেশের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করেছে এবং সঠিক উপায়ে তা কাজে লাগাতে পারলে আগামী দশ বছরে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ার মতো অর্থনীতির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
প্রথম আলোর পডকাস্টে লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিজন ইসলাম বাংলাদেশের কনসালটিং খাতের বিকাশ, উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প এবং দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন।


0 Comments