প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) ছায়া স্পষ্ট রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ। প্রথম আলোতে প্রকাশিত নিজের কলামে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সংশোধনীগুলো অবারিত নজরদারির পথ উন্মুক্ত করবে, মতপ্রকাশের ক্ষেত্রকে সীমিত করবে এবং গণমাধ্যমগুলোকে সেলফ-সেন্সরশিপে বাধ্য করবে।
আলী রীয়াজ জানান, ২০০৬ সালে সাইবার স্পেসে নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বলে আইসিটি আইন করা হলেও পরবর্তী সময়ে ২০১৩ ও ২০১৮ সালে তা আরও কঠোর করা হয়। বিশেষ করে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারা অস্পষ্ট ছিল এবং পুলিশকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর পরিচালিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে ১ হাজার ৪৩৬টি মামলায় ৪ হাজার ৫২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, যার বড় শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষার্থীরা। তৎকালীন সময়ে ভিন্নমত দমনে ক্ষমতাসীনদের পছন্দের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল এই আইন এবং জামিন না পেয়ে জেলে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল।
বর্তমান প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ এখন সংশোধনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে নতুন উপধারা ২৬(ক) যুক্ত করে গুজব, অপতথ্য বা মানহানিকর তথ্য প্রচারের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এগুলোর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় এবং প্রমাণের ছাড়াই কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের সুযোগ থাকায় এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে বিচারের ভার ন্যস্ত করা এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে সরকারের প্রভাবের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। সংশোধনীতে ট্রাস্ট বা কোম্পানিকেও মানহানির আওতায় এনে লাইসেন্স বাতিলের বিধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বা অন্যান্য সংস্থাকে ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার পরিপন্থী বলে কলামে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ছায়া দেখছেন বিশ্লেষক আলী রীয়াজ। এতে মতপ্রকাশ সীমিত হওয়া ও নজরদারির শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।


0 Comments