ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আবহে দক্ষিণ কোরিয়ায় উদযাপিত হলো প্রাচীন উৎসব চুসক

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আবহে দক্ষিণ কোরিয়ায় উদযাপিত হলো প্রাচীন উৎসব চুসক

দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন উৎসব চুসক। হানগাউই নামে পরিচিত এই উৎসবটির শেকড় রয়েছে কোরিয়ার প্রাচীন সিলা রাজ্য যুগে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, সিলার রাজা ইউরির আমলে নারীদের দুটি দলে বিভক্ত করে প্রায় মাসব্যাপী কাপড় বোনার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। অষ্টম চান্দ্র মাসের ১৫তম দিনে এই প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হতো এবং পরাজিত দল বিজয়ী পক্ষকে ভোজের আয়োজন করে আপ্যায়ন করত। সেই সঙ্গে গান, নাচ ও নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে এই প্রথার সূচনা হয়েছিল, যা চুসকের প্রাচীন ইতিহাসের অন্যতম ভিত্তি। পরবর্তী সময়ে এই উৎসবটি শরতের ফসল ঘরে তোলার উদযাপনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে। ফলন ভালো হওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন চুসকের অন্যতম প্রধান আচার হিসেবে স্থান করে নেয়। বর্তমান সময়েও চান্দ্র পঞ্জিকার অষ্টম মাসের ১৫তম দিনে পূর্ণিমার সময় এই উৎসব পালন করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা এক ছাদের নিচে মিলিত হন এবং চার্যে নামক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে কবরস্থানে গিয়ে প্রার্থনা করেন। চুসক উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হলো ঐতিহ্যবাহী খাবার সোংপিয়ন। চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এই ছোট পিঠার ভেতরে তিল, মটর বা শিম এবং বিভিন্ন মিষ্টি উপাদান ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি, ঐতিহ্যবাহী গাংগাংসুল্লে দলবদ্ধ নাচ এবং নানা ধরনের লোকখেলাও এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের নবান্ন উৎসবের ফসল তোলার আনন্দ এবং ঈদের দিনে পরিবারের সবার একত্রিত হওয়ার অনুভূতির সঙ্গে চুসকের কিছু মিল থাকলেও এর নিজস্ব স্বতন্ত্র কোরীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং পূর্বপুরুষ স্মরণের ঐতিহ্য রয়েছে। চুসকের ছুটির দিনগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোরীয় নাগরিকদের পাশাপাশি প্রবাসী বিদেশিরাও নানা আয়োজনে অংশ নেন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান।

সংক্ষেপে:
ঐতিহ্যবাহী নানা আচার, খাবার এবং পরিবার ও স্বজনদের মিলনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় উদযাপিত হয়েছে প্রাচীন উৎসব চুসক।
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আবহে দক্ষিণ কোরিয়ায় উদযাপিত হলো প্রাচীন উৎসব চুসক

0 Comments