নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাষণে তিনি বলেন, সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্বায়নের এই যুগে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ঘটা ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব প্রতিটি রাষ্ট্রেই কমবেশি পড়ে উল্লেখ করে তিনি জানান, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং ফিলিস্তিন ইস্যসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গ্লোবালাইজেশনের বর্তমান সময়ে মানবসৃষ্ট সংঘাতের ফলে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর এর চাপের কথা তুলে ধরেন। স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশ তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই কেবল এর সমাধান সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম উল্লেখ করে তিনি ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে COP-31 এ আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ আশা করেন। পরিবেশ রক্ষায় দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরুর কথাও তিনি জানান। এছাড়া দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর, নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে স্পোর্টস অন্তর্ভুক্ত করার কথা তুলে ধরে তিনি সবার জন্য নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা অর্জনে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাষণে তিনি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং আলোচনার মাধ্যমে সব সংঘাতের সমাধানের ওপর জোর দেন।


0 Comments