আফগানিস্তানের বাদাখশান পাহাড়ের লাজিস লাজুলি পাথর থেকে শুরু হওয়া নীলের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরোনো। প্রাচীন মিসরের ফারাওদের মুখোশ রাঙানো থেকে শুরু করে রোমানদের কাছে আকাশের টুকরা হিসেবে সমাদৃত এই পাথর গুঁড়ো করে তৈরি হতো রঙের রাজা আলট্রামেরিন। একসময় প্রাকৃতিক এই উপাদানের দাম সোনার সমান বা তার চেয়েও বেশি ছিল। ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, ১৮৮৮ সালে শিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ আলট্রামেরিন কিনতে না পেরে আক্ষেপ করেছিলেন, যা তাঁর বিখ্যাত 'স্টারি নাইট' চিত্রকর্মে অমর হয়ে আছে। মধ্যযুগে রাজপরিবার ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে নীল রঙের বিশেষ কদর থাকলেও ১৮৫৬ সালে লন্ডনে উইলিয়াম পার্কিন কৃত্রিম রং আবিষ্কার করার পর তা সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসে। উনিশ শতকে বাংলার নদীয়ায় ব্রিটিশদের জোরপূর্বক নীল চাষের বিরুদ্ধে চাষিরা নীল বিদ্রোহ গড়ে তুলেছিল, যার স্মৃতিচিহ্ন এখনো বহন করছে নীলডাঙ্গার মতো গ্রাম। ১৯০৩ সালে প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'এ ট্রিপ টু দ্য মুন' তৈরির সময় পরিচালক জর্জ মেলিয়েস হাতে নীল রং ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ইসরায়েলের পতাকা তৈরির সময়ও পবিত্র নীল রঙের ব্যবহার নিয়ে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। পরবর্তীতে অপরাধ বা আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে জাপানের স্টেশনের আলো নীল করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক ল্যাপিস লাজুলি খনি প্রায় শেষের পথে থাকায় এবং প্রাকৃতিক আলট্রামেরিন অমূল্য হয়ে ওঠায় আধুনিক স্ক্রিনের নীল আলো মূলত ল্যাবে তৈরি সাদা এলইডি আলোর তরঙ্গ। তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ভ্যান গঘ মিউজিয়াম আর্কাইভ, রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি, বাংলাদেশ-পিডিয়া, প্যারিস রিভিউ এবং জিউইশ ভার্চ্যুয়াল লাইব্রেরি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
আফগানিস্তানের পাহাড় থেকে স্ক্রিনের আলো পর্যন্ত, মানবসভ্যতায় নীল রঙের ইতিহাস এবং এর বিবর্তনের নানা অজানা গল্প নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।


0 Comments