স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আট K পর্যন্ত এই সময়সীমায় সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৮৩ জন। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৯৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হামে প্রাণ হারিয়েছেন ১০১ জন। এর আগে বুধবারের হিসাব অনুযায়ী এক দিনে ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর চিত্রে দেখা যায়, হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মারা গেছেন ৪৩৩ জন। এ ছাড়া সিলেটে ১৬৯, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৮, চট্টগ্রামে ৭৬, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪১ এবং রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পেছনে টিকাদানের কম আওতা দায়ী। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ হয় কোনো টিকা নেয়নি, অথবা হাম-রুবেলার মাত্র একটি ডোজ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ৯ মাস বয়স হওয়ার আগেই কিছু শিশু সংক্রমিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানায়, আক্রান্তদের ৯১ শতাংশই এক থেকে চৌদ্দ বছর বয়সী শিশু, যা টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে। করোনা মহামারির সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার কারণে বহু শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। শিশুদের পূর্ণ সুরক্ষার জন্য অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হাম পরিস্থিতির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার অতিক্রম করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই টিকাদানের হার কমে যাওয়ার কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


0 Comments