মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের নানা আচরণের মাধ্যমে দাম্পত্য সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ, কোমলতা এবং ভালোবাসা প্রকাশের চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ইসলাম ধর্মে দাম্পত্য জীবনকে সুন্দর ও মধুর করে তুলতে বেশ কিছু সুন্নতের কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) ভালোবাসা প্রকাশে সবসময় অকপট ছিলেন। সাহাবি আমর ইবনুল আস (রা.) একবার মহানবীকে মানুষের মধ্যে তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে তা জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই আয়েশা (রা.)-এর নাম উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া ভালোবাসার এই প্রকাশ কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা প্রাত্যহিক অভ্যাসেও প্রতিফলিত হতো। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে নবীজি তাঁর পান করার পাত্রের নির্দিষ্ট স্থানে মুখ রেখে পানি পান করতেন এবং ঋতুবতী থাকা অবস্থায়ও একসঙ্গে পাত্রের পানিতে গোসল করতেন। স্বামী-স্ত্রীর ছোটখাটো যত্ন ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্ত্রীর মুখে ভালোবেসে খাবার তুলে দেওয়াকেও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াব অর্জনের মাধ্যম হিসেবে বলা হয়েছে। খেলাধুলা ও শরীরচর্চামূলক আনন্দেও নবীজি সময় দিতেন। আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর দৌড় প্রতিযোগিতার স্মৃতি এর অন্যতম প্রমাণ। ঘরে ফেরার পর পরিপাটি থাকা এবং মিসওয়াক করার মাধ্যমে মুখ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো, যা স্ত্রীর প্রতি গভীর যত্নেরই প্রকাশ। ক্লান্তির মুহূর্তে স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে পবিত্র কোরআন পাঠ করা এবং ঋতুস্রাবের সময়ও তাদের সান্নিধ্যে থাকার মাধ্যমে প্রচলিত কুসংস্কার ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া স্ত্রীর শখের প্রতি সম্মান জানিয়ে মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণে হাবশি যুবকদের খেলা দেখার সুযোগ করে দেওয়া, প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকালের পরও তাঁর বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের মূল্যায়ন করা, এবং গৃহস্থালির কাজে যেমন কাপড় সেলাই বা জুতো মেরামতে পরিবারকে সহযোগিতা করার মতো মহানুভবতা তিনি প্রদর্শন করেছেন। পুরুষ হিসেবে ঘরের কাজে সাহায্য করাকে অসম্মানের মনে না করে তিনি নিজ হাতে তা করতেন। পাশাপাশি স্ত্রীর মনে আনন্দ জাগাতে তাঁকে আদুরে ও সুন্দর নামে সম্বোধন করতেন, যার মধ্যে আয়েশা (রা.)-কে তিনি 'হুমাইরা' বলে ডাকতেন। এসব আচরণ ও সুন্নতের অনুসরণেই একটি সুখী ও মধুর দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।
দাম্পত্য জীবন সুন্দর ও মধুর করতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর শেখানো দশটি হৃদয়গ্রাহী সুন্নত তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।


0 Comments