সকালে সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর পর সন্ধ্যার বিনোদনের অভাব দূর করতে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে এখন নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শহর এবং মেরিন ড্রাইভের একাধিক হোটেল ও রিসোর্টে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গান ও নানা পরিবেশনা উপভোগ করছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। লাবণী পয়েন্টের হোটেল কল্লোল ও প্যাঁচার দ্বীপের মারমেইড বিচ রিসোর্টে এই সমাগম সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
হোটেল কল্লোলে গত সাত বছর ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাম্পান আকৃতির মঞ্চে স্থানীয় শিল্পীরা লোকসংগীত ও আধুনিক গান পরিবেশন করেন। জে অ্যান্ড জেড গ্রুপের পরিচালিত এই হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হাসান জানান, পর্যটকদের রাত্রিকালীন বিনোদনের সুযোগ তৈরি করতেই এই আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিনামূল্যে অংশ নেন। মহাব্যবস্থাপক মো. হাবিবুল বাশার জানান, সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত এই গান চলে। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক নজিবুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী নাসরিন সুলতানা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, এতে সন্ধ্যার সময় কাটানোর চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, মেরিন ড্রাইভের প্যাঁচার দ্বীপের মারমেইড বিচ রিসোর্টে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বছরজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়। মারমেইড ইকোট্যুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল হক চৌধুরী জানান, বিশ্বমানের নানা আয়োজনের মাধ্যমে কক্সবাজারের পর্যটনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখানে বার্নিং ক্র্যাব ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন উৎসবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণীরা নৃত্য পরিবেশন করেন।
এ ছাড়া কলাতলীর সায়মান বিচ রিসোর্ট ও ওশান প্যারাডাইস হোটেলসহ আরও কয়েকটি তারকা হোটেলের লবি ও প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় লাইভ মিউজিক ও যন্ত্রসংগীতের আয়োজন করা হয়। সায়মান বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক সরওয়ার আলম এবং ওশান প্যারাডাইসের জনসংযোগ কর্মকর্তা সায়ীদ আলমগীর জানান, সারা দিন ঘোরার পর পর্যটকেরা সন্ধ্যায় এসে এসব উপভোগ করেন।
কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার কারণে উন্মুক্ত পরিবেশের বড় আয়োজন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও কল্লোল ও মারমেইডের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অনেক হোটেলের পর্যাপ্ত খোলা জায়গা না থাকায় তারা চাইলেও এমন আয়োজন করতে পারছে না। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুর মনে করেন, আন্তর্জাতিক গন্তব্যের মতো কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করতে রাত্রিকালীন বিনোদনে আরও বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
দিনের আলো ফুরোলেই জমজমাট হয়ে উঠছে কক্সবাজার। পর্যটকদের রাত্রিকালীন বিনোদন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে শুরু হয়েছে গান ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন।


0 Comments