ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

পাবনায় সরকারি কলেজের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

পাবনায় সরকারি কলেজের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

পাবনার সুজানগরে সরকারি ডাক্তার জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের চৌদ্দটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে কলেজটির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী দুলাই বাজার এলাকায় পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচি থেকে কলেজের আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৮ সালে জাতীয়করণ হওয়া এই কলেজটিতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। জনতা ব্যাংক দুলাই শাখায় প্রতিষ্ঠানটির মোট চুয়াল্লিশটি হিসাব রয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষের স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা তোলেন কলেজের হিসাবরক্ষক গিয়াস কামাল। গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে হিসাবরক্ষককে ২২ হাজার ৫০০ ও ২৯ হাজার ৯০০ টাকার দুটি চেক দেওয়া হয় এবং বিকেলে অধ্যক্ষ মুঠোফোনে ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনের খুদে বার্তা পান। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তিনি ব্যাংকে গিয়ে দেখতে পান চেকে দেওয়া স্বাক্ষর তাঁর নয়। পরবর্তীতে ব্যাংকের চৌদ্দটি অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট যাচাই করে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের আলামত পাওয়া যায়। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে রোববার কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান শহিদুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান শহিদুর রহমান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং তারা সোমবার থেকেই অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছেন। কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফর হোসেন মুন্সি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো সহযোগিতা করছে না এবং টাকা উত্তোলনের চেকগুলোও দেখানো হয়নি, যা থেকে চেকদাতা ও ব্যাংকের কারো যোগসাজশ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কলেজ অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ বলেন, যেহেতু হিসাবরক্ষক ব্যাংক থেকে টাকা তোলেন, তাই এর দায় তাঁর ওপরই বর্তায় এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে কলেজের হিসাবরক্ষক গিয়াস কামাল দাবি করেছেন, ব্যাংক চেক যাচাই–বাছাই করেই অর্থ প্রদান করে এবং টাকা তোলার পর অধ্যক্ষের ফোনে এসএমএস যায়, তাই তাঁর ওপর মিথ্যা দায় চাপানোর কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে জনতা ব্যাংক দুলাই শাখার ব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের কারো জড়িত থাকার কোনো সুযোগ নেই, কারণ প্রতিটি চেক ভালোভাবে যাচাই করেই টাকা দেওয়া হয় এবং লেনদেনের পরিমাণ অধ্যক্ষের মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

সংক্ষেপে:
পাবনার সুজানগরে সরকারি ডাক্তার জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের ১৪টি অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
পাবনায় সরকারি কলেজের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

0 Comments