ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

নান্দবাইলে ব্যাংক আউটলেট বন্ধের পর লেনদেন চালিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নান্দবাইলে ব্যাংক আউটলেট বন্ধের পর লেনদেন চালিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শিয়ালধরা বাজারে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট বন্ধ থাকার পরও অবৈধভাবে লেনদেন চালিয়ে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করার একটি গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৬ জন প্রতারণার শিকার গ্রাহক তাদের জমানো আমানত ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই আউটলেটটি কর্তৃপক্ষ গত ২০২৫ সালের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু শাখাটি বন্ধের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে এবং ব্যাংকের পুরনো সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেই পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতারণামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। গ্রাহক এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের অর্থ জমা নেওয়ার পাশাপাশি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত উপায়ে ভুয়া রসিদ প্রদান করে লাখ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বহু বাসিন্দা ও প্রবাসী পরিবার তাদের কষ্টার্জিত কোটি কোটি টাকা খুইয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শামসুন্নাহার ২৪ লাখ টাকা, জাহাঙ্গীর ১৪ লাখ টাকা এবং পারুল আক্তার ২০ লাখ টাকা হারিয়েছেন। এছাড়া আরও অনেক গ্রাহকের স্থায়ী আমানত ও সঞ্চয়পত্রের অর্থ গায়েব হয়ে গেছে। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার উদ্দেশ্যে গেলে আউটলেট পরিচালক তাদের সাথে মারমুখী আচরণ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আউটলেট পরিচালক শেখ মাজহারুল ইসলাম মিজান সমস্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে এর দায় সাবেক ব্যবস্থাপক সোহেলের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন, যিনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, অগ্রণী ব্যাংকের কালীগঞ্জ বাজার শাখা ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান আউটলেটটি বন্ধ থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে এজেন্ট শাখায় কোনো ধরনের সঞ্চয়পত্র খোলার নিয়ম নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমান বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত জানান, এই বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যাংক ব্যবস্থাপককে তলব করা হয়েছিল এবং বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে:
নান্দবাইলে বন্ধ থাকা ব্যাংক আউটলেটে অবৈধ লেনদেন চালিয়ে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
নান্দবাইলে ব্যাংক আউটলেট বন্ধের পর লেনদেন চালিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0 Comments