গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে দুই দশক পুরোনো আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্দেশ্যে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) এরই মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কোনো প্রতিষ্ঠানের পুরো পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে ছয় মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা চাওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনে আরও ছয় মাস বাড়ানো সম্ভব হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পূর্ণাঙ্গ খসড়া পাঠানোর জন্য এমআরএকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান নিয়মে পুরো পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক বসানোর একক ক্ষমতা এমআরএর নেই। পাশাপাশি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রেও সংস্থাটির অনাপত্তি নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ জানিয়েছেন, তাঁরা এমআরএর সঙ্গে কাজ করছেন এবং খুব দ্রুত যৌথ মতামত প্রদান করবেন। ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান এ বিষয়ে আপাতত কোনো মন্তব্য করতে চাননি। আইন সংশোধনের খসড়াটি প্রায় তিন মাস আগে ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (সিডিএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত ১১ আগস্ট আগারগাঁওয়ে এমআরএ কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমআরএর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন উল্লেখ করেছেন, দুই দশকে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং খাতটিকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বেতনের সঙ্গে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেতনের বিরাট ফারাক রয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে সিইওদের বেতন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা অনেক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চেয়েও বেশি। সিডিএফের চেয়ারম্যান মুর্শেদ আলম সরকার দাবি করেছেন, এই খসড়া সরকারের বিনিয়ন্ত্রণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতির চাকা উল্টো দিকে ঘুরবে। নতুন আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় এমআরএর লাইসেন্স নিতে হবে এবং নামের শেষে এমএফআই শব্দ যুক্ত করতে হবে। টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা বেগম মনে করেন, ক্ষুদ্রঋণ খাতকে ব্যাংক খাতের সঙ্গে তুলনা করা সঠিক হবে না এবং অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এ খাত থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। খসড়ায় লাইসেন্স পাওয়ার পর মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার পাশাপাশি অর্থ আত্মসাতের ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্ত ও সুদসহ অর্থ আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সাবেক শিক্ষক এম এ বাকী খলীলী সময়ের প্রয়োজনে এই আইন সংশোধনকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, একটি বড় প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলে পুরো খাতের ওপর তার প্রভাব পড়ে, তাই অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গেও সংলাপ প্রয়োজন।
গ্রাহক সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা আনতে ক্ষুদ্রঋণ খাতের দুই দশক পুরোনো আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। প্রস্তাবিত আইনে পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগসহ বিভিন্ন কড়াকড়ির প্রস্তাব করা হয়েছে।


0 Comments