নেপালের নুয়াকোট জেলায় এক ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ৯০০ শিক্ষার্থী। গত ২৬ আগস্ট বুধবার সকালে রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরের ‘ত্রিভুবন ত্রিশূলী স্কুলে’ এই ঘটনা ঘটে। স্কুলের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদির সময়োচিত ও সাহসী সিদ্ধান্তে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার দিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে ক্লাস চলাকালীন এক কর্মী অধ্যক্ষকে জানান যে, একটি প্রচণ্ড বন্যা স্কুলের দিকে ধেয়ে আসছে। পাহাড়ি নদীর উজানের বাসিন্দাদের থেকে পাওয়া এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পর রাজেন্দ্র দাওয়াদি মুহূর্তেই সব শিক্ষার্থীকে উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সে সময় স্কুলে উপস্থিত প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে শুরু করে। বাসে আসা শিক্ষার্থীদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ।
সতর্কবার্তা পাওয়ার মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত স্কুলটিতে আঘাত হানে। চোখের পলকে পুরো স্কুল ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়। ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউনিশা আমাত্য জানায়, শিক্ষকদের নির্দেশে তারা দ্রুত পাহাড়ের উঁচু রাস্তায় উঠে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছে। তবে আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে শিক্ষকরা তাদের মোটরবাইকে করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন।
অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি জানান, শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক বড় হওয়ায় দ্রুত সরে যেতে পেরেছে। তবে এই দুর্যোগে স্কুলের অন্তত একজন শিক্ষক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বর্তমানে স্কুলের দুটি বাস ছাড়া আর কোনো কিছুরই অস্তিত্ব নেই। হিমালয়ের এই নদী উপত্যকায় পাহাড়ি ঢলে নেপালে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং স্কুল ধ্বংস হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের মুখে ৯০০ শিক্ষার্থীর প্রাণ বাঁচালেন এক প্রধান শিক্ষক। মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে স্কুলটি ধ্বংস হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন তিনি।

0 Comments