কিশোরগঞ্জে উপর্যুপরি অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রী ঝর্ণা আক্তারকে হত্যার মামলায় স্বামী ইসমাইল সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল সাগর বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে এবং নিহত ঝর্ণার স্বামী। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন ইসমাইল। এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাতে দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা ছেড়ে বাজিতপুর উপজেলার নিলখী নয়াহাটে মায়ের বাড়িতে চলে যান ঝর্ণা আক্তার। ঘটনার দিন অর্থাৎ পরের দিন রাত পৌনে আটটার দিকে শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হন ইসমাইল। সে সময় বাড়ির পূর্ব পাশে মাটির চুলায় রান্না করছিলেন ঝর্ণা। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ইসমাইল তার কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে ঝর্ণাকে উপর্যুপরি আঘাত করেন এবং মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তাকে কিল-ঘুসি ও লাথি মারেন। ঝর্ণার বোন স্বপ্না আক্তার, রাজিব মিয়া ও সবুজ মিয়া বাধা দিতে গেলে সবুজ মিয়াকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান ইসমাইল। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ঝর্ণাকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর নিহতের মা জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় দেন। কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কিশোরগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী ইসমাইল সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।


0 Comments