জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৮০ কোটিরও বেশি মানুষ প্রতি রাতে অনাহারে ঘুমাতে যায়। এই খাদ্যাভাব কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নয়, বরং ত্রুটিপূর্ণ বণ্টনব্যবস্থা ও অতিভোগবাদের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ইসলাম খাদ্য নিরাপত্তাকে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে পাঁচটি মৌলিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
ইসলামি জীবনদর্শনে খাদ্য সংস্থানকে মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা কুরাইশে ক্ষুধা থেকে অন্ন দানকে ইবাদতের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে জানিয়েছেন, যার কাছে সারা দিনের আহারের সংস্থান থাকে, সে যেন সমগ্র পৃথিবীটাই নিজের অধিকারে পেয়ে গেল।
ক্ষুধা দূরীকরণে ইসলাম কায়িক শ্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। অলসতাকে বর্জন করে জীবিকা অন্বেষণকে ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে আহার তুলে দেওয়াকে আল্লাহর পথে জিহাদের সমতুল্য বলেছেন। এমনকি নিজের হাতের উপার্জনকে সর্বোত্তম খাদ্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসলামে আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুল মানে অলস বসে থাকা নয়, বরং সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করা।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত মেহনতি মানুষের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাকে ক্ষুধা মুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখা হয়েছে। শ্রমিকের পারিশ্রমিক আটকে রাখা বা তাদের শোষণ করাকে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান বিশ্বের খাদ্যসংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত অপচয় ও অতিভোজন রোধে ইসলাম কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। কোরআনে অপচয়কারীদের শয়তানের ভাই হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের জন্য পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি এবং বাকি অংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত শ্রমের মর্যাদা, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং অপচয় রোধের মাধ্যমেই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব বলে ইসলাম মনে করে।
বিশ্বে ৮০ কোটির বেশি মানুষ প্রতি রাতে অনাহারে ঘুমান। এই সংকট মোকাবিলায় ইসলাম শ্রমের মর্যাদা, অপচয় রোধ ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। জানুন ক্ষুধা নিবারণে ইসলামের রূপরেখা।


0 Comments