আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা ও তথ্য মন্ত্রণালয়। তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে আফগানিস্তানের তালেবান কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন যে, রাতের আঁধারে চালানো পাকিস্তানি বিমান হামলায় আফগান ভূখণ্ডে অন্তত তিনজন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তালেবানের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, কুনার প্রদেশে বিমান হামলায় একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া পাকতিকা প্রদেশে দুটি স্থানে বোমা হামলায় একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হলেও কেউ হতাহত হননি। এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে বিগত তিন মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর সীমান্ত এলাকায় নতুন করে এই সংঘাত শুরু হলো। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গিরা আফগানিস্তানে আশ্রয় পেয়ে থাকে। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জঙ্গিবাদকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহাট জেলায় গত শুক্রবার একটি পুলিশ স্থাপনায় ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হন। এরপরই আফগানিস্তান সীমান্তে এই নতুন বিমান হামলার ঘটনা ঘটল। এছাড়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, গত রোববার আফগান সীমান্তবর্তী হাঙ্গু জেলায় পৃথক গোলাগুলির ঘটনায় ছয় পাকিস্তানি সেনা ও আট জঙ্গি নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিমান ও ড্রোন হামলা এবং পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণে উভয় দেশে কয়েক শ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ২৮ জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে তালেবান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর অভিযোগ তোলা হয়েছে।


0 Comments