জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া ভাষণের কড়া সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, ওই ভাষণে ভিত্তিহীন মিথ্যা ছড়িয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর ভাষণের পরপরই এই প্রতিক্রিয়া জানান মামদানি। এর আগে থেকেই নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে আসছেন মেয়র মামদানি। ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এর জেরে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মামদানি। যদিও নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষের এমন গ্রেপ্তারের এখতিয়ার নেই, তাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি মামদানি আহ্বান জানিয়েছিলেন। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মামদানিকে সরাসরি আক্রমণ করে ৩৪ বছর বয়সী এই মুসলিম মেয়রকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসরায়েলের সমালোচনা করায় নিউইয়র্কে ইহুদিরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। পরে এক বিবৃতিতে মামদানি জানান, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যাকে বৈধতা দিতে জাতিসংঘে আবার ভিত্তিহীন মিথ্যা প্রচার করেছেন নেতানিয়াহু। তার ভাষ্যমতে, কোনো মিথ্যাই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সত্যতা বদলাতে পারবে না। ভাষণে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু একে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা বলে মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহুর ভাষণে মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজির প্রসঙ্গও উঠে আসে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কিছু পোস্টে লাইক দিয়ে দুয়াজি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় মামদানি উপস্থিত ছিলেন না। তবে এর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে সরকারি বাসভবনে জলপাইগাছের চারা রোপণ ও গাজার কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজ করতে দেখা যায়। মামদানিকে নিয়ে নেতানিয়াহুর এই সমালোচনা জাতিসংঘের গণ্ডি পেরিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। আগামী মাসে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির জন্য বড় পরীক্ষা। নির্বাচনী প্রচারে দলটির বিলবোর্ড ও পোস্টারে মামদানির ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিওতে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মামদানিকে উচ্ছ্বাস করতে দেখানোর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ইহুদিবিরোধী দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগও তোলা হয়েছিল। মামদানির বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর এসব আক্রমণের সমালোচনা করেছেন তার মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্রুকলিন ও ম্যানহাটানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার। তিনি মন্তব্য করেন, জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা ইসরায়েলি ও মার্কিন ইহুদিদের নিরাপত্তা আরও কমিয়ে দিচ্ছে।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের কড়া সমালোচনা করে ভিত্তিহীন মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।

0 Comments