কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কেন্দ্র করে স্থানীয় কিশোর গ্যাংগুলোর তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা দলবেঁধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া, বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং একা পেয়ে পথচারী বা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগে জড়িত। পাশাপাশি টিকটক ভিডিও তৈরি এবং কোটবাড়ি সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে মাদকের কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ এবং মো. কামরুল হাসান কোটবাড়ি বাইকার গ্রুপ বা কেবিজি নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনও একই গ্যাংয়ের সদস্য। গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ সিয়ামের সঙ্গে তুহিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং স্থানীয়ভাবে তুহিন উচ্ছৃঙ্খল তরুণ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সদর দক্ষিণ থানা ও এর আশপাশের এলাকায় কেএনএফ, ইসমাইল, র এবং সিবিকে নামের গ্যাংগুলো সক্রিয় রয়েছে। গত ছয় বছরে মডার্ন, রকস্টার, রয়েল বেঙ্গল, সিজলিন, জে অ্যান্ড জে, বিগ ব্রাদার, টুইস্ট, ব্ল্যাক স্টার, ডার্ক, ইগল, আরজিএস, র্যাক্স, এক্স, এলআরএন, সিএমসি ও ডিস্কো বয়েজের মতো বিভিন্ন গ্রুপের সক্রিয়তার ইতিহাস রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সদর দক্ষিণে কেবিজি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আলী সাইমন এবং তার দলে সোহাগ রানা ও মোহাম্মদ হানজালাসহ বেশ কয়েকজন সদস্য রয়েছে। সাইমনের এক মামা পেছন থেকে এই গ্রুপকে সহায়তা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ২৮ আগস্ট আমির হোসেনের খামারে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল ও দুটি মাইক্রোবাসে করে এসে ফটক ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় এবং চাঁদা না দিলে খামারে আগুন দেওয়ার হুমকি দেয়। এলাকাবাসী একত্রিত হলে তারা পালিয়ে যায় এবং পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। খামারের পাশের এক ব্যক্তির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে এবং এ ঘটনায় আমির হোসেন সদর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কুমিল্লার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা টাকার বিনিময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয় এবং গভীর রাতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা করে। সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, কেবিজি ও কেএনএফসহ যেসব গ্রুপের তথ্য পুলিশের কাছে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বুধবার রাতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ৩২ জনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, দুজনের বিরুদ্ধে পূর্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল এবং বাকিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক তালিকা অনুযায়ী, রাজধানী বাদে দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলায় ২২৭টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যার মোট সদস্যসংখ্যা ২ হাজার ৫৫০। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে ৯৮টি, সিলেটে ১৫টি, রাজশাহী ও গাজীপুর মহানগরে ১৩টি করে এবং খুলনা মহানগরে ৭টি গ্রুপ রয়েছে। জেলা পর্যায়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫টি গ্যাং নোয়াখালীতে সক্রিয়। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ১৫৯টি কিশোর গ্যাংয়ে ১ হাজার ৮১২ জন সদস্য রয়েছে। ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৭টি গ্যাং মোহাম্মদপুরে এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬টি গ্যাং পল্লবী থানা এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যার পর আলোচনায় এসেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। পুলিশ সদর দপ্তরের তালিকা অনুযায়ী দেশজুড়ে সক্রিয় রয়েছে দুই শতাধিক গ্যাং।
-6ab6093cc9082.webp)

0 Comments