আজ ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। শ্রবণপ্রতিবন্ধী ও বধির মানুষের সমান অধিকার, মর্যাদা এবং সমাজে পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ এই দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়। ২০২৬ সালের এই দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হলো শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের মানবাধিকার ঘোষণা। একই সঙ্গে ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বধির সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। এবছর বিশ্ব বধির ফেডারেশনের ৭৫ বছর এবং জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদের ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে। শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং সমাজের মূল দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৫১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ব বধির ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দীর্ঘ আন্দোলনের পথ ধরে ২০১৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে ২০১৮ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইশারা ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রধান ভাষা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ শ্রবণশক্তি হ্রাসের সমস্যায় পড়তে পারেন। বাংলাদেশেও শ্রবণপ্রতিবন্ধকতা একটি বড় সমস্যা হলেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ২০০৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ইশারা ভাষা সরকারি স্বীকৃতি পেলেও বর্তমানে বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সারাদেশে মাত্র আটটি বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পায়। এছাড়া সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইশারা ভাষার ব্যবহার এবং প্রশিক্ষিত দোভাষীর অভাব থাকায় শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন।
আজ আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস। শ্রবণপ্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে এই দিনে।


0 Comments