ওমানের পূর্ব উপকূলে ভারতের দিকে যাত্রাপথী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে টর্পেডো হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমভি কেপ দাও নামের ওই জাহাজটিতে চালানো এই হামলায় সুরজ যাদব নামের এক ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং জাহাজটিতে ওয়াইপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই হামলার পর ১৯ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নিহত নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পুরো পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং উদ্ধারকৃত নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ওমানি প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। এই সহযোগিতার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারত। বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংকট নিরসনে কূটনীতি ও সংলাপের পথেই জোর দেওয়া উচিত। বেসামরিক অবকাঠামো, বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালানো অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে নতুন দিল্লি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এদিকে ফরোয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এফএসইউআই) জানিয়েছে, এমভি কেপ দাও জাহাজে দুটি টর্পেডো আঘাত হানে। যার একটির লক্ষ্য ছিল নাবিকদের আবাসন এলাকা সি-ডেক এবং অপরটি আঘাত করে ইঞ্জিন কক্ষের কাছাকাছি বাম পাশের কাঠামোতে। ইউনিয়নটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই জাহাজে মোট ২৮ জন নাবিক কর্মরত ছিলেন যাদের মধ্যে ২০ জনই ভারতীয় নাগরিক, যা ওমানস্থ ভারতীয় দূতাবাসের দেওয়া ১৯ জনের হিসাবের সঙ্গে সামান্য ভিন্ন। এফএসইউআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের নাবিকদের নিরাপত্তার পূর্বের সব আশ্বাস অর্থহীন হয়ে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় নিরপরাধ বেসামরিক নাবিকদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে। ঘটনার দ্রুত জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুরজ যাদবসহ ঝুঁকিতে থাকা সকল ভারতীয় নাবিকের ন্যায়বিচার এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ওমানের পূর্ব উপকূলে ভারতগামী বাণিজ্যিক জাহাজে টর্পেডো হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৯ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে।


0 Comments