১৯১২ সালে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া বিখ্যাত ব্রিটিশ যাত্রীবাহী জাহাজ টাইটানিকের বহু ইতিহাস ও স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে কানাডার বন্দরনগরী হ্যালিফ্যাক্সের সঙ্গে। সম্প্রতি শহরটিতে ভ্রমণকালে এই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের নানা দিক তুলে ধরেছেন এলিজা বিনতে এলাহী। ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল দুই হাজারের বেশি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে যাত্রা শুরু করা টাইটানিক চার দিন পর একটি হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিন ঘণ্টারও কম সময়ে ডুবে যায় এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। দুর্ঘটনার পর মৃতদেহ উদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে হ্যালিফ্যাক্স। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত চারটি কানাডীয় জাহাজ মোট ৩২৮টি মরদেহ উদ্ধার করে এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনকে হ্যালিফ্যাক্সের ফেয়ারভিউ লন, মাউন্ট অলিভেট ও ব্যারন হির্শে এই তিনটি সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়। সমাধিস্থলগুলো ছাড়াও শহরের মেরিটাইম মিউজিয়াম অব আটলান্টিক জাদুঘরে টাইটানিকের সঙ্গে হ্যালিফ্যাক্সের সংযোগের এক বিশাল প্রদর্শনী রয়েছে। টাইটানিক: দ্য আনসিঙ্কেবল শিপ অ্যান্ড হ্যালিফ্যাবক্স নামের এই স্থায়ী প্রদর্শনীতে জাহাজটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ৫০টির বেশি বস্তু, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ও নথি সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে রয়েছে টাইটানিকের একটি আসল ডেক চেয়ার, ১৯ মাস বয়সী শিশু সিডনি লেসলি গুডউইনের বলে বিশ্বাস করা এক জোড়া ছোট চামড়ার জুতা এবং সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া কাঠের নানা টুকরো। ১৯৯৭ সালে পরিচালক জেমস ক্যামেরনের বিখ্যাত টাইটানিক চলচ্চিত্র নির্মাণের সময়ও এই জাদুঘরের নিদর্শন ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়েছিল।
কানাডার হ্যালিফ্যাক্স শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯১২ সালে ডুবে যাওয়া টাইটানিকের মর্মান্তিক ইতিহাস। সেখানকার মেরিটাইম মিউজিয়ামে সংরক্ষিত নানা নিদর্শন ও সমাধিক্ষেত্রে ঘুরে দেখা যায় টাইটানিকের সেই স্মৃতির নানা দিক।


0 Comments