আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সম্পদ কীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তা শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে কীভাবে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণের কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান থাকলেও এর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে তা পূর্ববর্তী রায়ের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নামে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকা এবং নগদ সাড়ে ২৮ হাজার টাকা দেখানো হয়েছিল। এছাড়া তার নামে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমি, ঢাকার পূর্বাচলে একটি প্লট এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একটি তিনতলা ভবন রয়েছে। গাজীপুরের মৌচাকে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের একটি বাগানবাড়ি এবং পূর্বাচলে পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দকৃত প্লট নিয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অধীনে এবং সুধা সদন সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের নামে রয়েছে।
এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের পরিবারকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা অতীতে তার হলফনামায় সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রস্তুতি চলছে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিত শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।


0 Comments