পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত মো. রায়হানকে এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সর্বশেষ সোমবার বিকেলে দেওয়া একটি পোস্টে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম ও রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে সতর্ক করেছেন রায়হান। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের একটি পক্ষ তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে রাতে দায়িত্ব পালন করা দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। রায়হানের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষ গ্রুপগুলো তাঁকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা রাতে ডিউটি করা দুজন পুলিশ সদস্যকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিকল্পনার সঙ্গে আজিজ ও ডাকাত গ্রুপ জড়িত বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে রায়হানের এসব দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রায়হান আরও দাবি করেন, তাঁর ফেসবুক প্রোপাইল ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর নাম ব্যবহার করে অন্যেরা সুবিধা নিচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, রায়হানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং রাউজানে যেকোনো ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করে এবং এখানে কেউ কারও নাম ব্যবহারের সুযোগ নেই। এর আগেও রায়হান ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছেন। গত ২০ আগস্ট পুলিশের উদ্দেশে তিনি ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ লিখে পোস্ট দিয়েছিলেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিম হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর ফেসবুক স্টোরিতে পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি আলোচনায় আসে, যদিও ওই ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছিল তা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। রায়হানকে ধরতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, রায়হান রাউজানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আস্তানা গড়ে তুলেছেন এবং অবস্থান শনাক্তকরণ এড়াতে তিনি বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। ওই এলাকায় যানবাহনে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ না থাকা এবং মুঠোফোন নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকায় অভিযান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৯ জুলাই নোয়াখালীর সেনবাগের একটি বাসার ছাদ থেকে পুলিশি অভিযান টের পেয়ে রায়হান পালিয়ে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রায়হানের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে ১৫টি মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর নামে বা পরিচয়ে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে চাঁদা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী রায়হানকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। এর মধ্যেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পুলিশ সুপার ও ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করেছেন তিনি।


0 Comments