রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী ফ্যাক্টফেস্ট ২০২৬ এর প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা স্কুলস্তর থেকেই শিশুদের তথ্য যাচাইয়ের মৌলিক দক্ষতা শেখানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ডিজিটালি রাইট ও ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে এবং সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিডা) সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। প্যানেল আলোচনায় চিকিৎসক ও রাজনীতিক তাসনিম জারা বলেন, শিশুদের জন্য সাইবারজগৎ নিরাপদ করার পাশাপাশি তাদের তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন গবেষণার উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে শিশুরা নিজেরাই নির্ভরযোগ্য ও মিথ্যা তথ্য আলাদা করতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাশাপাশি স্কুলের নিচের শ্রেণি থেকেই এই শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) ডিন ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান সুমন রহমান বলেন, অপতথ্য অনেক সময় সত্যের চেয়ে দ্রুত ছড়ায়, তাই সত্যকে মানুষের উপযোগী ও আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতে হবে। ইউএনডিপি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ শীলা তাসনিম হক জানান, ডিপফেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর তথ্যের যুগে তথ্য যাচাইকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক পল রাপাচিওলি বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টধারী প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে একজন সম্পাদক। উদ্বোধনী আয়োজনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লাইনাস র্যাগনাস উইকস, ডিজিটালি রাইট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী এবং ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মারিয়া পিটারসন। মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশে অপতথ্য মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা বিনিময় ও উদ্যোগ জোরদার করতে তথ্য যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের একটি কমিউনিটি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, বাংলাদেশ একটি নাজুক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এর সঙ্গে অপতথ্যের সম্পর্ক রয়েছে।
রাজধানীতে শুরু হওয়া ফ্যাক্টফেস্ট ২০২৬-এর আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা স্কুলস্তর থেকেই শিশুদের তথ্য যাচাইয়ের শিক্ষা দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।


0 Comments